Wed, 12 Dec, 2018
 
logo
 

আড়াইহাজারে বিড়ি ভোক্তাদের মানববন্ধন ও সমাবেশ


আড়াইহাজার করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: আড়াইহাজার উপজেলার বিড়ি ভোক্তাদের সমিতির উদ্দেগ্যে “ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বিড়ি রাখবো না” গত ৩০ জুলাই’১৭ অর্থমন্ত্রীর এরূপ বক্তব্য প্রদানের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে বিড়ি ভোক্তা, শ্রমিক ও মালিক পক্ষ অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে আসছে সারাদেশে।

এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার বিকাল ৪ টায় আড়াইহাজার পৌর গাজিপুরা এলাকায় রহিজ উদ্দিন মার্কেটের সামনে বিড়ি ভোক্তা সমিতির উদ্দেগ্যে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিড়ি ভোক্তা সমিতির নেতাকর্মীরা।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আব্দুল আজিজ তিনি বলেন, বাংলাদেশের গ্রাম অঞ্চল কৃষক ও ভেনগাড়ী চালক, রিক্সাচালক ও তাতঁ শিল্পের শ্রমিকরা অল্প বেতনে কাজ করে। তাদের সংসারিক খরচ, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া খরচ চালিয়ে তাদের পক্ষে উচ্চ বিলাশি সিগারেট ধূমপান করা সম্ভব হয় না। এর কারণে বর্তমান জনবান্ধব সরকার নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের কথা চিন্তা করে বিড়ির দাম কমিয়ে আনার আহবান জানান। তিনি আরো বলেন, বিড়ির উপর থেকে সুল্ক আয় প্রতাহারের দাবী করেন।

সমাবেশে আগত ভোক্তারা অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার ও তার পদত্যাগ দাবি করেন। বক্তারা জানান, অর্থমন্ত্রী দেশের ধুমপায়ীদের ক্ষেত্রে বরাবরই দ্বি-মূখী নীতি গ্রহন করে আসছে। প্রতি অর্থ বছরে বাজেট প্রণয়নের সময় দেশের সিগারেট মালিকদের কর সুবিধা প্রদান করে, বিড়ির উপর অধিক হারে কর আরোপ করে বিড়ি শিল্পকে ধংসের নীল নকশা করছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান বিড়ি শিল্পকে কুটির শিল্প হিসেবে ঘোষনা করেছিলেন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদ অধিবেশনের বক্তব্যে বলেছিলেন নিজেকে বিতর্কিত করেছেন। গরিব মানুষ যেটা ব্যবহার করে তার দাম যেন না বাড়ে। অথচ অর্থমন্ত্রী বিড়ি শিল্পের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে বক্তব্য প্রদান করে ইতোমধ্যে বক্তারা অভিযোগ করেন, অর্থমন্ত্রী ধুমপানকে নিরুৎসাহিত করতে বিড়ি শিল্পের উপর অধিকহারে কর আরোপ করে আসছে অথচ দেশে ধুমপায়ীদের সিংহভাগ লোক সিগারেট ধুমপান করে, সেই সিগারেট শিল্পকে বিশেষ উদ্দেশ্যে নাম মাত্র মূল্যে কর ধার্য করে আসছে।

আরো বক্তারা বলেন, বিড়ি গরীব এবং খেটে খাওয়া মানুষের পন্য। এর উপর কর বাড়ানো যাবেনা বরং সিগারেটের উপর কর বাড়াতে হবে কিন্তু বর্তমান অর্থমন্ত্রী সিগারেটের উপর কর কমিয়ে বিড়ির উপর কর বাড়িয়ে দেওয়ায় ঐতিহ্যবাহী বিড়ি শিল্প এখন ধ্বংসের পথে। বিড়ি শিল্পের সঙ্গে জড়িত ৩০ লাখ শ্রমিক অনিশ্চিত বেকার জীবনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী বাজেটের আগে সিগারেটের সঙ্গে বৈষম্যপূর্ন বক্তব্য প্রত্যাহার না হলে বিড়ি ভোক্তারা কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে বলেও জানান বক্তারা। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, আফতাফ উদ্দিন, ইউসুফ আলী, খোকন মিয়া, হারাধন, মাখন দে সহ অনেকে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম