Sat, 20 Oct, 2018
 
logo
 

হকারদের খোলা চিঠি

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সংর্ঘষের পর নগরীর বিভিন্ন স্থানে খোলা চিঠি দিয়েছে হকাররা। চিঠিটি অনলাইন পত্রিকা  লাইভ নারায়ণগঞ্জ’র পাঠকদের জন্য হুবুহু তুলে ধরা হলো।


প্রিয় নারায়নগঞ্জ বাসীর উদ্দেশ্যে হকারদের খোলা চিঠি:-

আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, আমাদের পরিবারের দু বেলা আহার যোগানোর জন্য আমরা ফুটপাতে ব্যবসা করছি। যার কারনে আপনাদের চলাফেরার বিগ্ন ঘটে। কি করবো বলুন, আমরা রাজার কপাল নিয়ে জম্মাইনি। ঝড়, বৃষ্টি ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করে পরিবারের দুবেলা আহার জোটানোর জন্য এই ফুটপাতে ব্যবসা করছি। বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তি করে তাদেরকে মানুষ করার চেষ্টা করছি যেন তাদেরকে আমাদের মতো ফুটপাতে বসতে না হয়।
আপনারাও তো কারো পিতা কারো মাতা, আপনাদের সন্তান না খেতে পারলে যেমন কষ্ট হয় তেমনি আমাদেরও কষ্ট হয়। সন্তানদের মুখের দিকে তাকালে বুক ফেটে কান্না আসে। আর সৃষ্টিকর্তার কাছে আর্তনাদ করি আর কারো যেন হকার হতে না হয়।
নিজেরা এক বেলা খাই আরেক বেলা না খেয়ে সন্তানদের মানুষ করার চেষ্টা করছি। আমরা তো চুরি করছি না বা ছিনতাই করছি না কিংবা মাদকের ব্যবসা করছি না। আপনাদের একটু কষ্টের বিনিময়ে যদি আমরা দুবেলা আহার যোগার করতে পারি, আমাদের সন্তানদের যদি লেখাপড়া নিশ্চিত করতে পারি তাহলে আমাদের জন্য এতোটুকু কষ্ট কি মানুষ হিসেবে আপনারা করতে পারবেন না?
আমাদের ব্যবসাটা হয় দুইটা ঈদ, পূজা ও পহেলা বৈশাখ ও শীত মৌসুমে এবং বিশেষ বিশেষ উৎসবে। যখন এই সময়গুলি আসে তখনি আমরা ব্যবসার জন্য প্রস্তুতি নেই এবং সারা বছর এই আয় দিয়েই সংসার চালাই। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এই উৎসবের ২ মাস পূর্বে যদি আমাদের নোটিশ করা হত তাহলে হয়তো আমরা অন্য কোনো অবলম্বন খুজে বের করতাম। তা না করে হঠাৎ করেই ঘোষনা আসে হকার মুক্ত ফুটপাতের। ইতিমধ্যে আমরা ব্যবসার প্রয়োজনে টাকা ঋন করে মালামাল ক্রয় করে দুবেলা আহার যোগানের প্রয়োজনে স্বপ্ন দেখতে শুরু করি।
আপনারাই বলুন এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত আমরা কি করতে পারি? আপনারা তো বিবেক সম্পন্ন মানুষ, আমাদের জন্য কি একটু কষ্ট আপনাদের রিদয়ে দাগ কাটে না! আপনাদের সন্তানদের জন্য যদি আপনাদের মায়া হয় তাহলে আমাদের সন্তান কি সন্তান না! আমাদের জন্য কি এতোটুকু কষ্ট আপনারা করতে পারেন না?
মেয়র, ডিসি এবং এসপি সাহেবের কাছে আমরা অনুরোধ করেছি যেন আমাদের জন্য বিকল্প একটা ব্যবস্থা করে দেয়। আমরা শুধু এক মাস এই শীতে শুধু রাস্তায় বসার অনুমতি চেয়েছি। তারপরেও আমাদের সাথে এই বিমাতা সুলভ আচরনে আমরা কষ্ট পেয়েছি ও ব্যথিত হয়েছি। রোহিঙ্গাদের জন্য যদি সারা বাংলার মানুষ ত্রান নিয়ে শীত বস্ত্র নিয়ে কষ্ট করে টেকনাফ চলে যেতে পারে, তাহলে আমরা বাঙ্গালী হয়েও কি আপনাদের একটু সহানুভূতি একটু সহযোগিতা পেতে পারি না ?
আমরা আবারো ক্ষমাপ্রার্থী আপনাদের সাময়িক অসুবিধার জন্য।    

    
হকার্স পরিবার

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম