Tue, 24 Apr, 2018
 
logo
 

এনসিসির সহযোগীতা পেলে বন্দরে দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব আশা সেলিম ওসমানের

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বন্দরকে একটি উন্নয়নশীল এলাকা উল্লেখ করেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেছেন, শীতলক্ষ্যা নদীতে একটি সেতু নির্মিত হচ্ছে। নবীগঞ্জ দিয়ে আরো একটি সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে,

মদনগঞ্জে শান্তিরচরে নীটপল্লীর কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। বন্দর থানা এলাকার বিরাট একটি অংশ জুড়ে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। তাই উন্নয়ন কাজ গুলো সম্পন্ন করতে সিটি করপোরেশনের সহযোগীতা প্রয়োজন। সিটি করপোরেশনের সহযোগীতা পেলে খুব অল্প সময়েই উন্নয়ন কাজ গুলো সম্ভব হবে। সবগুলো উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে পারলে সারাদেশের উপজেলা গুলোর মধ্যে বন্দর হবে সব থেকে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী উপজেলা।

শনিবার ১৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৮টায় মদনগঞ্জ-মদনপুর সড়কের বন্দর রেললাইন এলাকার অদূরে অবস্থিত সমরক্ষেত্র’৭১ মাঠে বিজয় উৎসব উদযাপন অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান এসব কথা বলেন।

নবীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ১৫ দিনের মধ্যে ফেরী সার্ভিস চালু করার ঘোষণা দিয়ে গিয়ে ছিলেন। কিন্তু নবীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে ফেরী সার্ভিস চালু করতে গেলে ৩টি মন্ত্রনালয় থেকে ফাইল ছাড়তে হবে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয় এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রনালয় থেকে ফাইল পাস হয়েছে। যেহেতু শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব এবং পশ্চিম উভয় পাড় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের এলাকায় অবস্থিত তাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকে ফাইল পাস হতে হবে এবং এর জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সহযোগীতা সব থেকে বেশি প্রয়োজন। যদি সিটি করপোরেশন আমাদেরকে সহযোগীতা করেন তাহলে দেখা যাবে যে কোন দিন ফেরী চালু করা সম্ভব হবে। আর নবীগঞ্জ দিয়ে সেতু নির্মাণের জন্য আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চাহিদা পত্র সহ প্রয়োজনীয় সকল উদ্যোগ নিয়েছি। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন থেকেও নবীগঞ্জ দিয়ে সেতু নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে। আসলে নবীগঞ্জ দিয়ে সেতুটি অতি প্রয়োজন। কে করলো সেটা বড় কথা নয়। এ ব্যাপারে আমাদের উভয়কেই পারস্পারিক সহযোগীতা প্রয়োজন তাহলে দেখা যাবে খুব দ্রুতই নবীগঞ্জ দিয়ে একটি সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হবে।

এনসিসির সহযোগীতা পেলে বন্দরে দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব আশা সেলিম ওসমানের

বন্দর উপজেলা এলাকায় একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং সমরক্ষেত্র মাঠের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ৩ বছর যাবত সমরক্ষেত্র মাঠে রাষ্ট্রীয় দিবসের কর্মসূচী গুলো পালন করা হচ্ছে। আমরা মাঠটির প্রায় ৭০ ভাগ উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি। আগামী এখানে স্থায়ী স্মৃতিসৌধ, বিজয়স্তম্ভ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্থাপন করা হবে। তখন এখানেই সকল কর্মসূচী পালন করা সম্ভব হবে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্টেডিয়াম নির্মাণের কর্মসূচী হাতে নিয়েছেন। সেই কর্মসূচীর অংশ হিসেবে দেশের অন্যান্য উপজেলা গুলোতে স্টেডিয়াম নির্মাণে কাজ শুরু হলেও জায়গার অভাবে বন্দর উপজেলার স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি। আমি উপজেলার চেয়ারম্যান, ৫টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সহ সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ করবো আগামী ১ মাসের মধ্যে স্টেডিয়ামের জন্য জমি খুঁজে বের করে জেলা প্রশাসনের সহযোগীতা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যাতে করে আগামী জুন মাসের মধ্যে স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়।

এমপি সেলিম ওসমানের আর্থিক সহযোগীতা এবং বন্দর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বিজয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। কুচকাওয়াজে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও অংশ গ্রহণ করেন। এছাড়াও ঘোটা অনুষ্ঠানে বন্দর থানা এলাকার ২৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২টি কলেজ সহ অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ প্রায় ১০ হাজার মানুষ অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।

শুরুতেই বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। এরপর একে একে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন, বন্দর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বন্দর থানা আওয়ামীলীগ, বন্দর থানা জাতীয় পার্টি, ফায়ার সার্ভিস, আনসার বাহিনী এবং বন্দর এলাকায় অবস্থিত প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেশ কয়েকটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিরা।

এনসিসির সহযোগীতা পেলে বন্দরে দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব আশা সেলিম ওসমানের
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) পিন্টু বেপারী, বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আবুল কালাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল লতিফ, সিটি করপোরেশনের ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, বন্দর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর হাসান কমল, সাংগঠনিক সম্পাদক খান মাসুদ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম