Tue, 24 Apr, 2018
 
logo
 

স্বাধীনতার কয়েক ঘন্টা আগেও না.গঞ্জে প্রাণ হারায় মিত্র বাহিনীর ৮ জন

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: মদনগঞ্জ রেললাইন ক্রস পয়েন্ট, মদনপুর চৌ-রাস্তা জংশন, কুড়িপাড়া রেল ষ্টেশন হতে গোকুল দাসের বাগের চৌ-রাস্তা এবং বন্দর ও কলাবাগান ক্রস পয়েন্ট হইতে নবীগঞ্জ রেল ষ্টেশন হয়ে দাসের গাঁও পর্যন্ত মুক্তি হয়ে ছিলো ১৫ ডিসেম্বর।

স্বাধীনতার কয়েক ঘন্টা আগে এই অঞ্চলগুলো মুক্ত করতে শহীদ হতে হয়েছিলো মিত্র বাহিনীর ৮জন সৈন্যকে এবং আহত হয়েছিলো দাউদকান্দি মুক্তি বাহিনীর কমান্ডার কাওছার সহ ২৫ জন।


জেলা প্রশাসনের পেইজে লেখা হয়, চারিদিকে যুদ্ধ আর যুদ্ধ। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে খুললেই বোঝা যায় বিজয় হয়তো নিশ্চিত ও আসন্ন। ১১ই ডিসেম্বর পূর্ব আগরতলা থেকে একের পর এক সংবাদ আসছিল যে মিত্র বাহিনী অচিরেই আমাদের সাথে যুক্তহয়ে শক্তি বহুগুন বৃদ্ধি করবে। কারণ পার্শ্ববর্তী দাউদকান্দি থেকে মিত্র বাহিনীর সৈন্যরা আমাদের ক্যাম্পে অবস্থান নিতে পারে। তাই গিয়াস উদ্দিন বীর প্রতীকের নেতৃত্বে সেই দিনের দেড় প্লাটুন মুক্তিযোদ্ধা সদা প্রস্ত্তত ছিল।


সন্ধ্যায় কিছুক্ষণ পরে দেখা গেল মিত্র বাহিনীর ১ম Advance Party  এসে উপস্থিত। আমাদের Green Signal  পেয়ে মিত্র বাহিনীর আগমন শুরু হলো। ১ম দিনের মধ্যেই ২ প্লাটুন সৈন্য এসে কাইকারটেক নামক স্থানে মুক্ত বাহিনীর ক্যাম্পে রিপোর্ট করতে শুরু করে।  ২য় দিনে আরো বাকী ২ প্লাটুন মিত্র বাহিনীর সৈন্য এসে আমাদের সাথে যোগ দেয়।


১৫ই ডিসেম্বর সকাল ১০ টায় এম.পি সিং এর নেতৃত্বে ৪টি গ্রুপে চারদিকে রেকি করতে বের হয়। ১ম গ্রুপ গিয়াস উদ্দিন বীর প্রতীকে নেতৃত্বে ২য় গ্রুপ সাহাবুদ্দিন খান সবুজ ও এন.পি. সিংহের নেতৃত্বে, ৩য় গ্রুপ জি.কে বাবুল ও মিজানুর রহমান ঢালীর নেতৃত্বে এবং ৪র্থ গ্রুপ নুরুজ্জামান ও দুলালের নেতৃত্বে বন্দরের কোন কোন স্থানে পাক বাহিনী ঘাটি করে আছে তা দুপুর একটার মধ্যে রেকি সম্পন্ন করে ফিরে আসে। পরে গিয়াসউদ্দিন বীর প্রতীককে নিয়ে এন.পি সিং ও চার গ্রুপের সেনারা বিকাল তিনটার বৈঠকে মিলিত হয়।


১৫ ডিসেম্বর বিকাল সাড়ে চারটায় অপারেশনের উদ্দেশ্যে সর্বমোট সাড়ে পাঁচ প্লাটুন মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীর সৈন্যরা একত্র হয়ে হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। দীর্ঘ ১৮ ঘন্টা সম্মুখ যুদ্ধের পর পূর্বাঞ্চল কমান্ডের চারটি যুদ্ধক্ষেত্র মদনগঞ্জ রেললাইন ক্রস পয়েন্ট, মদনপুর চৌ-রাস্তা জংশন, কুড়িপাড়া রেল ষ্টেশন হতে গোকুল দাসের বাগের চৌ-রাস্তা, বন্দর ও কলাবাগান ক্রস পয়েন্ট হইতে নবীগঞ্জ রেল ষ্টেশন হয়ে দাসের গাঁও অঞ্চল যুদ্ধ সংঘটিত হয়।


এই যুদ্ধে মিত্র বাহিনীর ৮জন সৈন্য মারা যায় এবং ২৫জন মিত্র বাহিনী ও মুক্তি বাহিনীর (দাউদকান্দি মুক্তি বাহিনীর কমান্ডার কাওছার সহ) সেনারা আহত হয়। নিহত ৮জন মুক্তি বাহিনীর সৈন্যকে মিরকুন্ডী নামক স্থানে রাস্তার পার্শ্বে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। পাক বাহিনীর আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে ১৬ ই ডিসেম্বর ১১ টায় স্বাধীনতার বিজয় ঘোষণা করা হয়। এই যুদ্ধে গিয়াস উদ্দিন বীর প্রতীকের নেতৃত্বে সাহাবুদ্দিন খান সবুজের গ্রুপ, মোঃ সেলিমের গ্রুপ, মোঃ আঃ আজিজের গ্রুপ, তপনের গ্রুপ, হাজী গিয়াসউদ্দিনের গ্রুপসহ দেড় প্লাটুন মুক্তিযোদ্ধারা অংশগ্রহণ করেন।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম