Fri, 17 Nov, 2017
 
logo
 

কাশিপুরের জোড়া খুন: রাসেল রায়হানের ফোনালাপে কী ছিল!

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুর গিরিঙ্গি মার্কেট হোসাইনী নগর এলাকায় জোড়া খুনের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এখনো তেমন কোন অগ্রগতি করতে পারেনি পুলিশ ।

ফুতুল্লা থানায় দায়েরকৃত জোড়া খুনের মামলাটি জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তদন্ত করলেও এই মামলার মূল হোতা জাহাঙ্গীর, ভাগিনা রাসেল, শিপলু, আসলামসহ এজাহারভুক্ত আসামী কিংবা বিএনপির নেতা আবদুল মজিদকে গ্রেফতার করতে না পারায় এলাকায় আতংক এখনো বিরাজ করছে ।
অপরদিকে সকল আসামী এখনো দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে । আর এই পরিস্থিতির উপর সার্বিক নজরদারী করছে পুলিশ পুত্র জোড়া খুনের পরিকল্পনাকারীদের অন্যতম হোতা রায়হান।  
সূত্রমতে, রাসেলের সাথে ঘনিস্ট বন্ধুত্ব থাকায় নিহত মিল্টনের কাছ থেকে রায়হান ১২ লাখ টাকা নিয়ে তা ফেরত দিতে টালবাহানা করতে থাকে । এক পর্যায়ে টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো মিল্টনকে হুমকি ধমকি দেয় রায়হান ও রাসেল । এরপর মিল্টন পাওনা টাকা ফেরত পেতে রায়হানের বাড়ীতে ও ডেকোরেটরের দোকানে প্রকাশ্যে তালা দেয় । এই ঘটনার পর মিল্টন, রাসেল ও রায়হানের টাকার বিষয়টি এক সময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী বিএনপি নেতা হাসান সময় দিয়ে মীমাংশা করে দিলে ক্ষোভ আরো তীব্র আকার ধারণ করে ।
এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও বিশাল মাদকের বখড়া নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে রায়হান অত্যান্ত কৌশলে মিল্টনের প্রতিপক্ষদের সংগঠিত করতে থাকে। এক পর্যায়ে জাহাঙ্গির, বাপ্পি, রাসেল, রায়হান ও তাদেও সহযোগি অনেকেই মিল্টনকে ঘায়েল করতে গত ৮ অক্টোবর রাতে হামলা করতে গিয়ে আহত হয়ে ফিরে আসলে ক্ষোভের আগুন আরো তীব্রতা লাভ করে । এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপি রাজনীতিকে ব্যবহার করে হাসান ও মজিদ গ্রুপের মিল্টন বিরোধী চক্র একত্রিত হয়ে ১২ অক্টোবর রাতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। শালিশীর কথা বলে মজিদ মুঠোফোনে ডাকলেও মিল্টন বুঝতে পারে তাকে মেরে ফেলতে পারে এই আশংকায় গ্যারেজের ভিতরে আত্মগোপন করলেও শেষ রক্ষা আর হয় নাই । মিল্টনের সাথে বিরোধ থাককলেও কোন সাক্ষী না রাখতে প্রথমে বাতি নিবিয়ে ফেলতে ও পারভেজকে হত্যা করতেও অনুপ্রেরণা ছিলো রায়হান, ধোপা আসলাম, আবুল, বাবুলসহ অনেকের।
প্রত্যাক্ষদর্শীদের অনেকেই জানায়, পাওনা টাকার বিরোধ ছাড়াও অনেকের সাথে মিল্টনের সন্ত্রাসী আচরণে অনেকেই ছিলো অতিষ্ঠ। বিগত দিনে বাবুরাইলের  এক প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যকে থানা হাজতে থেকে শার্টের কলার চেপে ধরে রোষাণলে পরে মিল্টন । এমন অসংখ্য ঘটনা ছাড়াও মিল্টন দোপা আসলামকে অসংখ্যবার অপমান অপদস্ত করে । অনেকের ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় হত্যাকান্ডের সিদ্ধান্তে।
গিরিঙ্গি মার্কেট এলাকার অনেকেই আরো বলেন, হাসান ও মজিদের ভাগিনা রাসেল ধূর্ততার সাথে রায়হানের সঙ্গে শলাপরামর্শ করে হত্যাকান্ড নিশ্চিত করার পর গা ঢাকা দিলেও এনিয়ে অনেকের সাথে রায়হান তার ০১৭১১২৩৮৯০৭ নাম্বার থেকে দফায় দফায় রাসেলের ০১৭১৫১০৫০৯৯ নম্বরে আলোচনা করে।
সকলের প্রশ্ন কী ছিল হাসান - মজিদের ভাগিনা রাসেল  ও রায়হানের সেই ফোনালাপে। অপরাধী চক্রের সকল মুঠোফোনের কল রেকর্ড অনুসন্ধান করলেই জানা যাবে জোড়া খুনের সার্বিক চিত্র।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম