Fri, 17 Nov, 2017
 
logo
 

মুরগীর ফার্মের বর্জ্য স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ২০টি পরিবার, যেন দেখার কেউ নেই

সোনারগাঁ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সোনারগাঁয়ের সাদিপুর ইউনিয়নস্থ ৯নং ওয়ার্ডের কাজহরদী সংলগ্ন নোয়াকান্দী (ছৈয়ালপাড়া) গ্রামে মৃত জিন্নত আলী’র ছেলে আব্দুল কাদির ও আব্দুর রহমান নামে দুই ভাইয়ের গড়ে তোলা ২টি মুরগির ফার্মের বর্জ্য অব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে চরম খামখেয়ালীপনা ও উদাসীনতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর তাদের এই অব্যবস্থাপনার কারণে স্থানীয় ২০টি পরিবার মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানা গেছে।


সরেজমিনে গিয়ে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং ফার্মের স্থাপনা ঝুলে মাটির উপর পড়ে আছে, ফার্মে ব্যবহৃত বর্জ্য দীর্ঘদিন না নিস্কাশন করায় পঁচে গলে অসংখ্য পোকা জন্ম নিয়েছে এবং তার সাথে অর্ধপাকা ভাঙ্গা পায়খানার বর্জ্য মিশে একাকার হয়ে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের তৈরি করেছে। তাছাড়া উক্ত বর্জ্যরে উপর দিয়ে ভিতরের বাড়িগুলোতে অবস্থান করা লোকজন পাকা রাস্তায় আসার ক্ষেত্রে এই ময়লার উপর দিয়ে ভাঙ্গা বাঁশের সাকো দিয়ে যাতায়াত করে। চলাচলের একটি রাস্তা আগে থাকলেও বর্জ্যরে কারণে সেটি বিলিন হয়ে গেছে।
এতে একদিকে বর্জ্যরে দুর্গন্ধে সবার নাভিশ্বাস উঠছে অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ যে কোন কিছু উক্ত বর্জ্যে পড়ে হারিয়ে যাবার আশংকা বাড়ছে। স্থানীয় আলী আজগর নামে ষাটোর্ধ বয়সের এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ এনে বলেন, দীর্ঘদিন আমরা মারাত্মক ও খুব কষ্টে জীবনধারণ করছি। তারা মুরগির ব্যবসা করবে এটা তাদের বিষয়। দেশের অনেক জায়গায় মানুষ ফার্মের মুরগীর উৎপাদন করছে, যা লোকালয়ের বাইরে। এ বিষয়ে আমাদের কোন অভিযোগ থাকার কথা না। কিন্তু তারা ফার্ম দিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করে ফেলেছে।
ফার্মের নীচে দীর্ঘদিন বর্জ্য পড়ে জমে আছে। বর্জ্য সরানো হচ্ছেনা এবং সরানোর মত কোন ব্যবস্থা রেখে ফার্মটি করা হয়নি। ফলে বর্জ্য পঁচে দুর্গন্ধ হচ্ছে এবং অসংখ্য পোকা সেখানে উৎপত্তি হয়ে আমাদের সহ আশেপাশের বাড়িতে উঠে আসছে। সারাক্ষণ এই ফার্ম থেকে দুর্গন্ধ বাতাসে ভেসে আসছে। তাছাড়া অর্ধপাকা একটি পায়খানার বর্জ্যও সেখানে গিয়ে মিশছে। এর উপর দিয়ে সাকো দিয়ে আমরা বের হতে পারছিনা এবং বাড়ির নারী ও শিশুরা বের হলে দুর্গন্ধের বিষয়ে কিছু বললে তাদের গালমন্দ করা হয় এবং এদিক দিয়ে না আসার জন্য ধমক দেয়া হয়।
ফার্মের এই অতীষ্ঠ অবস্থার বিষয়ে কয়েকবার আঃ রহমান ও আঃ কাদিরের সাথে কথা বললেও তারা তাতে কর্নপাত করেনি এবং এ বিষয়ে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এই বর্জ্যরে কারণে আমি অনেকদিন যাবৎ মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় আছি এবং পরিবারের অন্যরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের সাথে কথা বললে তিনি জানান, দীর্ঘদিন বর্জ্যরে দুর্গন্ধ ছড়ানো এটা খুব মারাত্মক বিষয়। এতে শরীরের ফুঁসফুস ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া সহ স্থানীয়দের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এ বিষয়ে সাদিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আঃ রশিদ মোল্লার সাথে কথা বললে তিনি জানান, বিষয়টির অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে আমি ইউএনও’র সাথে কথা বলেছি। লিখিত অভিযোগ দেয়া হলে অবশ্যই আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম