Thu, 24 Jan, 2019
 
logo
 

সাভারে শ্রমিকের মৃত্যু, না.গঞ্জ গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের আন্দোলন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সাভারের নিহত শ্রমিক সুমন মিয়ার হত্যাকারীদের গ্রেফতার, বিচার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে আন্দোলন করেছে নারায়ণগঞ্জ গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট। এছাড়াও মালিকদের সাথে বেতন কাঠামোর সমস্যার সমাধানে সরকারের প্রতি দ্রুত ব্যাবস্থাপণার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

সাভারে শ্রমিকের মৃত্যু, না.গঞ্জ গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের আন্দোলনবুধবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এই দাবী উপস্থাপন করেন নারায়ণগঞ্জ গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট। প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কের উপর বসে তারা কিছুক্ষণ অনশন পালন করেন। এরপর প্রেস ক্লাব হতে শুরু করে চাষাঢ়া মোড় ঘুরে ২ নং রেল গেইটে এসে একটি মিছিলের মাধ্যমে এই কর্মসূচীর সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

সাভারে শ্রমিকের মৃত্যু, না.গঞ্জ গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের আন্দোলন

আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ফেডারেশন সমাজতান্ত্রীক শ্রমীক দলের নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাইম খান বিপ্লব, নারায়ণগঞ্জ গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গোলক, সহ সভাপতি তৈহিদুল ইসলাম সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন সোহাগ, দপ্তর সম্পাদক কামাল পার্ভেজ মিঠু সহ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গার্মেন্টসের শ্রমিকরা।

 

জাতীয় ফেডারেশন সমাজতান্ত্রীক শ্রমিক দলের নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাইম খান বিপ্লব বলেন, আমাদের দেশের গার্মেন্টস শ্রমিকরা সবচাইতে বেশি বৈদেশীক মুদ্রা রপ্তানির মাধ্যমে নিয়ে আসে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের এই আয়ের উপর ভিত্তি করেই সরকারগুলো দেশের উন্নয়নের এবং অগ্রগতির কথা বলে। অথচ এই গার্মেন্টস শ্রমিকরা যে বেতন পায় সেটা খুবিই সামান্য। তারা দাবি করেছিল বর্তমান বাজার দর হিসেব করে তাদের বেতন হওয়া উচিৎ নূন্যতম ১৮ হাজার টাকা। শ্রমিকদের জন্য যে সকল সংগঠন সব সময় কাজ করে থাকে তাদের মতামতকে সরকার উপেক্ষা করে, একতরফা ভাবে দলীয় সংগঠনের কথায় ৮ হাজার টাকা নূন্যতম মজুরি করেছিল।

সাভারে শ্রমিকের মৃত্যু, না.গঞ্জ গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের আন্দোলন

তিনি বলেন, আজকের বাজারে এই টাকায় মানুষের জীবন এবং একটা পরিবার চলতে পারে না। এমনকি সরকার শ্রমিকদের যে ৭ টি গ্রেডে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারন করেছে তা বাস্তবে ৮০০০ টাকার অনুপাতে বৃদ্ধি ঘটে নাই। মজুরি কাঠামোতে ঘোষণা করা হয়েছে এবং আইনে আছে প্রত্যেক বছর ৫ ভাগ ইনক্রিমেন্ট বাড়ানো হবে। এই ইনক্রিমেন্ট হিসেব করলে প্রত্যেক শ্রমিকদের ১০০ থেকে ১৫০ টাকা মজুরি বেড়েছে। মালিকরা সেই অজুহাত দেখিযে শ্রমিকদেরকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে। শ্রমীক ইউনিয়ন সংগঠন গুলো মন্ত্রনালয়ের বোর্ডে লিখিত ভাবে দাবিগুলো হাজির করেছে। মালিক কতৃপক্ষ এবং সরকার বিষয়টাকে গুরুত্ব না দেওয়ায় শ্রমিকরা রাজপথে নেমে এসেছে।
তারা শান্তিপূর্ণ ভাবে মিটিং মিছিল করছে। সরকার তাদের পেটুয়া বহিনী দিয়ে সেগুলো লাঠিপেটা ও রবার বুলেট নিক্ষেপ করে পন্ড করার চেষ্টা করছে। পুলিশের বুলেটে গতকাল সাভারে গার্মেন্টস শ্রমিক সুমন মিয়া মৃত্যুবরণ করেছে। আরও বহু শ্রমীক হাসপাতালে আহত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, মালিকদের চক্রান্তে যদি সরকার পা দেয় তাহলে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে তার জন্য শুধু মালিকরা না সরকারও দায়ি থাকবে। সুমন মিয়াকে যারা হত্যা করেছে, তার পিছনে যে পুলিশ এবং মালিক কতৃপক্ষ দায়ি তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে হবে। উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, মজুরি কাঠামো পুনঃনির্ধারন করতে হবে। কোন রকম বৈষম্য শ্রমীকরা মানবে না।


এইভাবে দমন পিড়ন করে শ্রমিকদেরকে তাদের ন্যায্য দাবি থেকে সরকার বঞ্চিত করছে। আমরা আমাদের সংগঠনের থেকে ঘোষণা করছি যে মজুরি কাঠামো করা হয়েছে তা পুনঃ বিবেচনা করতে হবে। পুনরায় এইটা নির্ধরন করতে হবে। বৈষম্য সৃষ্টি করা মালিক পক্ষের চক্রান্ত সেইটা বন্ধ করতে হবে। সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে আমাদের দেশে যে ৪৫ লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিক তাদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া বাড়িয়ে তোলা।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম