Sat, 15 Dec, 2018
 
logo
 

হাসানের লাশে এলাকাবাসীর ঘৃণা, দাফনে ব্যর্থ স্বজনরা

র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে তালিকাভুক্ত দূর্ধর্ষ শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হাসান নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে হাসানের মরদেহ কোনভাবেই এলাকায় নিয়ে যেতে পারছে না। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এ ব্যাপারে প্রতিরোধের দূর্গ গড়ে তুলেছে।

এলাকাবাসীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে হাসানের মরদেহ দাফন সম্পন্ন করতে পারছে না তার পরিবারের স্বজনরা। নিহত সন্ত্রাসী হাসানের প্রতি এলাকাবাসী এতোটাই ঘৃণার অবস্থানে দাড়িয়েছে, তার লাশটি পর্যন্ত নিজের ঘরে ঢুকতে পারছে না। থানা পুলিশ এ ব্যাপারে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে এলেও এলাকাবাসীর তোপের মুখে সেখান থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার সকাল হতে না হতেই সন্ত্রাসী হাসান বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার খবর নিজ এলাকা শহরের দেওভোগের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। বাসাবাড়ি থেকে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার নরনারী দলে দলে ছুটে আসতে থাকে হাসানের বাড়ির দিকে। এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে বিভিন্ন ধরনের মিছিল শ্লোগানের মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করে। এলাকাবাসী স্পষ্টভাবে হুশিয়ারি দেন, সন্ত্রাসী হাসানের লাশ কোনভাবেই এলাকায় প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। এ অবস্থায় হাসানের স্ত্রী-সন্তান সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এক প্রকার গৃহবন্দি ও কোনঠাসা হয়ে পড়ে। দুপুরে ময়না তদন্ত শেষে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাসানের লাশ হস্তান্তর করলেও এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সাহস পায়নি তার স্বজনরা। বিকেলে এলাকাবাসী শান্ত হয়ে যার যার বাড়ি ফিরে গেলে হাসানের স্বজনরা আবারো লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে মূহুর্তের মধ্যে এ খবর ছড়িয়ে পড়তে এলাকাবাসী আবারো একত্রিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। হাসানের লাশ দেওভোগ এলাকার গলির মুখে নিয়েও রাস্তায় ফেলে যেতে বাধ্য হয় তার স্বজনরা। পরে তারা সদর থানায় গিয়ে এ ব্যাপারে পুলিশের সহযোগিতা চাইলে দ্রৃত ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌছে যায়। তবে এলাকাবাসী কঠোরভাবে জানিয়ে দেয় একজন দূর্ধর্ষ সস্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীর লাশ এলাকায় নিয়ে এলাকার পবিত্র মাটিকে অপবিত্র করতে দেয়া হবে না। প্রবল বাধার মুখে পুলিশ নানাভাবে এলাকাবাসীকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। হাসানের লাশ যেন কেউ এলাকায় প্রবেশ করাতে না পারে সেজন্য এলাকাবাসী রাতে পাহারার ব্যবস্থা করে। রাত বারোটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত খাটে রাখা অবস্থায় হাসানের লাশ দেওভোগ এলাকায় গলির মুখে রাস্তায় পড়ে রয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে রাতে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এলাকাবাসীকে নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা চলছে। পুলিশের বিশেষ একটি টীম এলাকায় পাঠানো হয়েছে। এলাকার পঞ্চায়েত কমিটিসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা হয়েছে। তারা সর্বাত্বক চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, আশা করি শীঘ্রই লাশ দাফনের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। হাসান সন্ত্রাসী হোক আর যোই হোক, সে একজন মানুষ এবং ইসলাম ধর্মের অনুসারী। এটা সবাইকে উপলব্ধি করতে হবে। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী লাশের দাফন করা বাধ্যতামূলক। ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে আমরা সেই কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করার টেষ্টা করছি। আশা করি এলাকাবাসী শান্ত হবেন। উল্লেখ্য, বরিবার ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের আলামীননগর এলাকায় র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় শহরের দেওভোগ পানির ট্যাংকি এলাকার মৃত ইয়াছিন মিয়ার ছেলে দূর্ধর্ষ শীর্ষ সন্ত্রাসী হাসান। পরে ব্যাব-১১ এর সিনিয়র সহকারি পরিচালক মো: আলেপ উদ্দিন গণমাধ্যমের কর্মীদের জানিয়েছেন, শহরের আলামীননগর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হাসান বিপুল পরিমান ইয়াবা নিয়ে আলামীননগর এলাকায় একটি বাড়িতে অবস্থান করছে,এই সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব রবিবার ভোরে সেখানে অভিযান চালিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির ভেতর থেকে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু হয়। র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় বিশ মিনিট গুলি বিনিময়ের পর র‌্যাব বাড়ির দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে গুলিবিদ্ধ অবস্খায় হাসানকে পড়ে থাকতে দেখে। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে নারায়ণগঞ্জ ১শ’ ৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে লাশ ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তিনি আরো জানান, বন্দুকযুদ্ধের সময় আলম ও আলামীন নামের দুই র‌্যাব সদস্য আহত হয়েছেন। তাদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে র‌্যাব নিহত হাসানের সাথে থাকা চার রাউন্ড গুলির্তি একটি বিদেশী পিস্তল ও দুই হাজার পাঁচশ’ পিছ ইয়াবা উদ্ধার করেছে। পরে নিহত হাসানের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা, তিনটি অস্ত্র, ডাকাতি ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিশটি মামলা রয়েছে। প্রতিটি মামলায় সে ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী ছিল।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম