Mon, 19 Nov, 2018
 
logo
 

পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা, অত:পর গণধোলাই

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: প্রতিদিনের আয়ে কোন ভাবে ৪ সদস্যের পরিবার চালিয়ে নেয় মোখলেছ। পেশায় ভ্যান চালক। ভ্যানের চাকা ঘুড়িয়েই বাড়ি ভাড়া, খাবার, চিকিৎসা, ছেলে মেয়ের লেখাপড়া, আরো কত কী খরচ?

একই অবস্থা আহম্মদ হোসেনেরও। ৭ সদস্যের সংসারের চাহিদা মিটাতে রাত দিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলেন। কখন মহাজনের গালমন্দ, আবার কখন অনেকের মারধরও সয়ে নিতে হয় শরীরে। সব কিছুর পরেও মরার উপর খাড়া ঘাঁ মতো দম বন্ধ হয়ে যায় চাদাবাজদের কবলে পরে।

শুধু মোখলেছ কিংবা আহম্মদ হোসেনই নয়, তাদের মতো নিতাইগঞ্জের প্রায় প্রতিটি ভ্যান চালকেরই জীবন চিত্র একই রকম। হাড় ভাঙ্গা খাটুনির টাকার পুরোটা দিন শেষে প্রায়ই নিয়ে যেতে পারতো না বাড়িতে।

কিন্তু প্রতিদিনের সেই অত্যাচারীর বিরুদ্ধে এবার রুখে দাঁড়িয়েছেন ভ্যান চালকরা। আওয়াজ তুলেছেন প্রতিবাদের।

নিতাইগঞ্জের ভ্যান চালকরা জানান, ২নং রেলগেইট এলাকায় প্রতিদিনই ১‘শ থেকে ১ হাজার পর্যন্ত টাকা হাতিয়ে নেন রুবেল নামের এক প্রতারক। কখনো নিজেকে ট্রাফিক পুলিশের সদস্য, কখন সিটি করপোরেশনের লোক হিসেবে পরিচয় দিতো। টাকা না দিলে মারধরও করতো। মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) আমাদের ৩ ভ্যান চালকের কাজ থেকে ১৫‘শ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আজকে (বুধবার) সকালেও একজনের কাছ থেকে নিয়েছেন ১‘শ টাকা। আর একজনকে আটকে রেখে ১ হাজার টাকা দাবি করেছে। প্রতিবাদে সব ভ্যান চালক একত্রিত হয়। রুখে দাঁড়ায়। প্রতারক আত্যাচারী চাদাবাজের সাথে প্রথমে বাকবিতন্ডা, তার পরে উত্তম মাধ্যম। শেষে তুলে দেয় পুলিশের হাতে।

আহম্মদ হোসেন বলেন, ট্রাফিকের সামনেই টাকা নিতো, আবার বলতো ট্রাফিকের লোক। টাকা না দিলে গাড়ি আটকে রাখবে বা পৌরসভায় নিয়ে যাবে। এতে ট্রাফিক পুলিশও সম্পৃক্ত থাকতে পারে।

তবে বিষয়টি অস্বীকার করে ২নং গেটে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বরত সদস্য সুরুজ মিয়া বলেন, সে যে আইনের লোক পরিচয় দিতো তা আমার জানা নেই বা কখনো দেখিনি। ভ্যান চালকরা ধরে এনে আমাদের কাছে দিয়েছে, আমরা থানায় প্রেরণ করেছি। বাকিটা থানায় দেখবে।

অপর দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, প্রতারককে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, মামলার কাজ প্রক্রিয়াধীন।

 

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম