Thu, 13 Dec, 2018
 
logo
 

হাসি-কান্নায় দেবী দুর্গাকে বিসর্জন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ‘দুর্গা মায় কি, জয়। মহামায়া কি, জয়। আদ্যাশক্তি দেবী দুর্গা কি, জয়।’ একের পর এক এমন জয়ধ্বনি, ঢাকঢোল আর কাঁসার ঘণ্টা বাজিয়ে হিন্দুধর্মাবলম্বী হাজারো ভক্ত দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন দিয়েছিন।

শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর ঐতিহ্যবাহী বিশাল শোভাযাত্রা করে নগরীর শতাধিক প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে শীতলক্ষ্যায়। বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব।

নগরী ছাড়া জেলার সব এলাকায় বিজয়া দশমীতে দেবীর প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। বিসর্জনে অংশ নিয়ে ভক্তরা বলেন, মর্ত্যে অবস্থানকালে সারা দেশের হিন্দুধর্মাবলম্বী হাজারো ভক্তের পুষ্পাঞ্জলিতে সিক্ত হয়েছেন দেবী দুর্গা। তাই ঢাকঢোল আর কাঁসর ঘণ্টা বাজিয়ে দেবীকে বিদায় জানানো হয়েছে।

বিসর্জন স্থানে জ্ঞানতা দাস বলেন, ‘মন ভালো নেই। মা আসলেন আবার দ্রুত চলে গেলেন। আবার এক বছর পর দেখা মিলবে। তবু যতটুকু ভালো লাগা তা হলো, ভালোভাবে পূজাটা করতে পেরেছি।’

হাসি-কান্নায় দেবী দুর্গাকে বিসর্জন

নগরীতে বিশাল শোভাযাত্রা:
বিভিন্ন মন্দির থেকে বিকাল ৪ টায় যে শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার কথা ছিল, তা শুরু হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। বিভিন্ন পূজাম-প থেকে এক এক করে প্রতিমা চাষাড়া মোড়ে এসে এই শোভাযাত্রায় যোগ দিতে থাকে। শঙ্খ আর উলুধ্বনি, খোল-করতাল-ঢাক-ঢোলের সনাতনী বাজনার সঙ্গে আধুনিক সাউন্ড সিস্টেমে হিন্দি চলচ্চিত্র ও দেবী-বন্দনার গানের মধ্য দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ কেন্দ্রীয় শোভাযাত্রায় অংশ নেন। ঢাকঢোল আর বাদ্যের তালে তালে শোভাযাত্রাটি যখন ১নং রেল গেইটে গিয়ে পৌঁছায়, তখন কিছুটা ভারাক্রান্ত হয়ে উঠে চারদিক। ৫ দিন ধরে নানান উৎসবমূখর পরিবেশে থাকা ভক্তদের মধ্যে অনেকে অশ্রুসিক্ত নয়নে মা দুর্গাকে বিদায় দিচ্ছেন। সুখ ও আনন্দ নিযে পূনরায় আগামী বছর ফিরে আসার মানসে।

হাসি-কান্নায় দেবী দুর্গাকে বিসর্জন

শীতলক্ষ্যার তীরে জনসমুদ্র:
বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে শীতলক্ষ্যার ৫নং ঘাটেও চলছে প্রতিমা বিসর্জন। হাজার হাজার পুণ্যার্থী এ প্রতিমা বিসর্জন দেখতে ভিড় করেছে নদীর তীরে। বিকাল সাড়ে ৭টার পর থেকে শঙ্খ ও উলুধ্বনি দিয়ে মর্ত্যলোকে আসা দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়। নারায়ণগঞ্জ শহর এলাকাসহ পাশ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা থেকে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে নেচে গেয়ে ট্রাকবাহী প্রতিমা নিয়ে আসে ভক্তরা। এরপর একে এক নৌকায় তুলে নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়।

হাসি-কান্নায় দেবী দুর্গাকে বিসর্জন

ট্রাফিক ব্যবস্থা:
বঙ্গবন্ধু সড়ক ফাঁকা থাকলেও ৫নং ঘাটে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের কাজ চলায় দুপুর থেকে যানজটে আটকে ছিল নগরীর সিরাজুদৌল্লাহ সড়ক। এসময় সড়কটির দুইটি লেনই আটকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। এতে চরম দূর্ভোগ পৌহাতে হয়েছে নগরবাসীকে। তবে বিকালে নগরীতে গণপরিবহণ প্রবেশ করতে না দেওয়ায় সড়কটিতে যানজট ছিলনা। এছাড়া কোথাও গাড়ি বৈধ পার্কিং করা হলেই লাগানো হয়েছে রেকার।

হাসি-কান্নায় দেবী দুর্গাকে বিসর্জন

বিসর্জনকে ঘিরে নগর পরিচ্ছন্নতায় এনসিসি:
প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে সকল থেকেই সিটি করপোরেশনের ৫০ কর্মী শীতলক্ষ্যার তীরের ৫নং ঘাট পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করে। দুপুর পর্যন্ত ৫নং ঘাট, বাস ট্রামিনাল পরিস্কার করছিলোন তারা। এছাড়া নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে পানি ছিটিয়েছে সিটি করপোরেশনের একটি গাড়ি। আর এ কর্মকান্ডে নেতৃত্বে ছিলেন পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন হিরণ। এসময় ৫নং ঘাট পরিদর্শনে গিয়েছেন কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস ও শারমিন হাবিব বিন্নি।
এসময় শারমিন হাবিব বিন্নি বলেন, কোন রকম সমস্যা ছাড়াই যাতে প্রতিমা বিসর্জন দিতে পারে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে সিটি করপোরেশন। আমরা বাস্তবায়ন করতে কাজ করছি।

হাসি-কান্নায় দেবী দুর্গাকে বিসর্জন

নিরাপত্তা ব্যবস্থা:
এ সময় ৫নং ঘাটে ব্যাপকসংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও নৌ-পুলিশ নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য অবস্থান নেয়। নারায়ণগঞ্জ পুলিশের একাধীক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিমা বিসর্জন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি নৌ-পুলিশ ও র‌্যাবে সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বছর সারা জেলায় ২০৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হয়েছে। দুর্গাপূজার সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম