Mon, 22 Oct, 2018
 
logo
 

ধর্মঘটের তৃতীয় দিন : না.গঞ্জ পাইকারী বাজারে ধ্বস

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সড়ক দূর্ঘটনা নিয়ে পাশ হওয়া নতুন আইন বাতিলসহ ৭ দফা দাবীতে তৃতীয় দিনের মতো নারায়ণগঞ্জে আন্দোলন করছে ট্রাক মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

মঙ্গলবারও শহরের নিতাইগঞ্জ, ফতুল্লার পঞ্চবটি, পাগলা ও সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল, কাঁচপুর ট্রাকস্ট্যান্ডসহ জেলায় সব ধরণের পন্যবাহি পরিবহন চলাচল ও লোডআনলোড বন্ধ রয়েছে। জেলার প্রায় তিন হাজার পণ্যবাহি পরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে ধ্বস নেমেছে জেলার পাইকারি পণ্য সামগ্রীর বাজারগুলোতে।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দুপুরে ৭ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে নগরীর জিমখানা এলাকায় কর্মবিরতি দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন ধর্মঘট পালনকারী পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিকরা। তাদের দাবী, নতুন ৩০২ ধারার আইন সংশোধন বা বাতিল করে পুরনো ৩০৪ ধারার আইন বহাল রাখতে হবে। এছাড়া সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর সংশোধন, ৩০২ ধারায় মামলা গ্রহণ না করা, ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বাতিলসহ ৭ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ধর্মঘট পালনকারীরা।
ধর্মঘটের তৃতীয় দিন : না.গঞ্জ পাইকারী বাজারে ধ্বস
এদিকে ট্রাক মালিক শ্রমিকদের এই ধর্মঘটের কারনে গত তিনদিন যাবত বিরূপ প্রভাব পড়েছে জেলার বৃহত্তম পাইকারি পণ্যের বাজার শহরের নিতাইগঞ্জে। এখানকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় দুই হাজার পাইকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ধ্বস নেমেছে। বেচাকেনা একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। আর্থিকভাবে তারা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বলে জানান পাইকারী ব্যবসায়ীরা।

চাউল ডাল পাইকারি বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিদিন যেখানে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার বেচাবিক্রি হতো সেখানে ধর্মঘটের কারনে বিশ হাজার টাকাও বেচাবিক্রি হচ্ছে না। আটা ময়দার এক মিল মালিক জানান, নিতাইগঞ্জের বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদিত আটা ময়দা দেশের প্রায় সব জেলায় পাইকারি বিক্রি হয়ে থাকে। ধর্মঘটের কারনে পুরো ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। বেচাবিক্রি না হলেও কারখানার শ্রমিকদেরকে বিনাশ্রমে বসিয়ে পারিশ্রমিক দিতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রেও আর্থিক লোকসান হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বেকার হয়ে পড়েছেন লোড আনলোড শ্রমিকরা। পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় তাদের অলস সময় কাটাতে হচ্ছে। যার কারনে পরিবার নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন যাপন করতে হচ্ছে এই দিনমজুর শ্রমিকদের।
রহিম মিয়া নামের এক শ্রমিক অভিযোগ করেন, গোপনে কেউ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল ও পণ্য লোড আনলোড করায় মঙ্গলবার সকালে কয়েকজন শ্রমিকের চোহারায় ও গায়ে আলকাতরা মেখে দিয়েছে ধর্মঘট পালকারীরা। এরপর ওই শ্রমিককে কান ধরিয়ে উঠবস করানোসহ দুই হাত জোড় করে মাফ চাওয়ানো হয়েছে। আন্দোলনকারীদের এমন অমানবিক কাজের নিন্দা জানান লোড আনলোড শ্রমিকরা।

এদিকে গতকাল সোমবার সকালে ফতুল্লার পাগলা এলাকায় আন্দোলনকারীদের মিছিল থেকে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে কয়েকটি যানবাহন ও ট্রাক শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয় ভাংচুরের ঘটনায় তিন শতাধিক ব্যক্তিকে আসামী করে ওই রাতেই ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদেরকে আসামী করা হয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঞ্জুর কাদের জানান, জজ মিয়া নামের স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক নেতা বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। ওই ঘটনায় কারা কারা জড়িত ছিল সে ব্যাপারে পুলিশ তদন্ত করছে।

তিনি বলেন, ধর্মঘটের আড়ালে এক শ্রেণীর লোক বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং আমরা তাদের পর্যযেক্ষণ করছি। আন্দোলনের নামে কেউ বিশৃংখলা সৃষ্টি করলে বা জনগণের জানমালের ক্ষতি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম