Mon, 22 Oct, 2018
 
logo
 

না.গঞ্জে স্বেচ্ছায় মামলা নিচ্ছে চালকেরা, ২ দিনে হাজারের অধিক মামলা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নিরাপদ সড়কসহ ৯ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে যানচলাচলে শৃঙ্খলা আনতে ট্রাফিক সপ্তাহ পালনের ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ। এরপর থেকেই নারায়ণগঞ্জে ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ যানবাহনের রুট পারমিট ও ফিটনেস-সংক্রান্ত নথিপত্র পরীক্ষায় মাঠে নামে ট্রাফিক পুলিশ।

এরই অংশ হিসেবে ট্রাফিক সপ্তাহের প্রথম দিনের জেলায় চালকসহ ছোট-বড় বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজারেরও বেশি মামলা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনি ঝামেলা এড়াতে অনেকেই স্বেচ্ছায় মামলা নিচ্ছে।

জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, ট্রাফিক সপ্তাহের প্রথম দুই দিনেই ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে নারায়ণগঞ্জের মোট ১ হাজারের অধিক মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ট্রাফিক বিভাগে মামলা হয়েছে ৬৪৩টি। বাকি মামলা গুলো করেছে জেলা পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জ পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ট্রাফিক সপ্তাহ শুরুর পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির বৈধ কাগজপত্র এবং ফিটনেস সনদ পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি চালক কোনো প্রকার মাদক গ্রহণ করে গাড়ি চালান কিনা, সেটাও যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রশিদ লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ট্রাফিক সপ্তাহ শুরুর পর প্রথম দিনে ৩৩৯টি মামলা ও পরের দিন ৩০৪টি মামলা করা হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগের পাশাপাশি নগরীর সদর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানায় ৮টি সহ জেলার অন্যান্য থানায় চেকপোস্ট থেকে আরো ৫ শতাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সরেজমিনে বেশ কয়েকটি ট্রাফিক অফিস ঘুরে দেখা যায়, স্বেচ্ছায় মামলা নেয়ার জন্য ট্রাফিক অফিসগুলোয় দাঁড়িয়েছেন গাড়িচালকরা। বিশেষ করে যে সব চালকের লাইসেন্স নেই, তাদের সংখ্যাই এ লাইনে বেশি দেখা যায়।

গাড়িচালকরা জানান, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শুরু থেকেই ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসের জন্য তাদের পথে পথে নানা ভোগান্তি শিকার হতে হয়েছে। এ সময় বিআরটিএতে গিয়েও দীর্ঘ লাইনের কারণে লাইসেন্স-সংক্রান্ত কাজ করা সম্ভব হয়নি। এজন্য বাধ্য হয়ে ট্রাফিক অফিস থেকে স্বেচ্ছায় মামলা নিচ্ছেন।

গত ২৯ জুলাই দুপুরে বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র আবদুল করিম ওরফে রাজীব (১৭) এবং একই কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৬) নিহত হয়। এছাড়া আহত হয় আরো ১২ শিক্ষার্থী। দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোয় অবস্থান নিয়ে গাড়ির কাগজপত্র ও চালকের লাইসেন্স পরীক্ষা করতে শুরু করে। ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি আটকে দেয় তারা। শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নেয়ায় কার্যত অচল হয়ে পড়ে রাজধানী। এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে ট্রাফিক সপ্তাহ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার জন্য বলা হয়।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম