Wed, 23 May, 2018
 
logo
 

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নারায়ণগঞ্জে ছাত্র ফ্রন্টের সমাবেশ


৩৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে আজ বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িকীকরণ, সন্ত্রাস-দখলদারিত্বমুক্ত শিক্ষাঙ্গন প্রতিষ্ঠা ও অবিলম্বে ডাকসুসহ সকল ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক রুখসানা আফরুজ আশা, জেলা কমিটির সহসভাপতি জেসমিন আক্তার  সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসাইন, সংগঠক অর্থ সম্পাদক ও সরকারি তোলারাম কলেজের সংগঠক মুন্নি সরদার, সরকারি মহিলা কলেজ শাখার সংগঠক সানজিদা শান্ত, নারায়ণগঞ্জ কলেজ শাখার সংগঠক রায়হান শরীফ প্রমুখ।


নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষা এখন একটি রমরমা ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। সহায়ক শিক্ষা ও গ্রন্থের নামে কোচিং সেন্টার গাইড বই ব্যবসা রমরমা। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক হয়ে পড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার লেনদেনের সম্পর্ক। এর সাথে যুক্ত হয়েছে মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষাসহ পিইসি, জেএসসি পরীক্ষার মতো পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো সর্বনাশা পরিস্থিতি। পিএসসির চাকুরিতে নিয়োগ পরিক্ষার প্রশ্নও ফাঁস হচেছ। প্রাথমিকে প্রতি বছর প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া ৪৫ লাখ শিশুর মধ্যে প্রায় অর্ধেক পঞ্চম শ্রেণিতে উঠতে না উঠতেই ঝরে পড়ে। দেশে এখনো ২৫ হাজার গ্রামে কোন সরকারি প্রাথমিক স্কুল নেই; ২১ হাজার স্কুলে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি, নেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। ১৮,৭৯৫ টি মাধ্যমিক স্কুলের মধ্যে সরকারি মাত্র ৩২৩টি। ভর্তির সময় অতিরিক্ত ফি’র পাশাপাশি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের সময় বাড়তি টাকা ও কোচিং বাণিজ্যেও করাল গ্রাসে অভিভাবকরাও অসহায় হয়ে পড়ছে।


নেতৃবৃন্দ বলেন, বাণিজ্যিকীকরণের সাথে সাথে মৌলবাদী শক্তির কাছে নতজানু সরকার শিক্ষার সাম্প্রদায়িকীকরণ করে চলেছে সমানতালে। এ বছর শুরুতেই হেফাজত ইসলাম ও আওয়ামী লীগের দাবির কাছে নতি স্বীকার করে সরকার মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে ২৯টা সাম্প্রদায়িক সংযোজনী করেছে। ফলে বাদ পড়েছিল অনেক প্রগতিশীল, মুক্তবুদ্ধি ও মননশীল লেখকের রচনা। বছরব্যাপী পাঠ্যপুস্তকের সাম্প্রদায়িকীকরণের প্রতিবাদে এবং সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে লেখাগুলো বাদদিয়ে প্রগতিশীল ও মননশীল লেককের রচনা পুনরায় যুক্ত করার দাবিতে আমাদের সংগঠনসহ প্রগতিশীল বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন করেছে। কিন্তু এরপরও এবারের পাঠ্যপুস্তকের সাম্প্রদায়িক লেখাগুলো বাদ দেয়া হয়নি । শুধু বানান শুদ্ধ করা হয়েছে মাত্র। তাই নতুন বছরের শুরু থেকেই সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্েরন্টর নেতৃত্বে সর্বস্তরের ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবকদের যুক্ত করে আমরা শিক্ষার বেসরকারিকরণ, বাণিজ্যিকীকরণ, সাম্প্রদায়িকীকরণ ও শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস-দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে এবং ডাকসুসহ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেয়ার দাবিতে বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই। শিক্ষার গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের এই সংগ্রামে আমরা সকল অংশের মানুষের অংশগ্রহণ, নৈতিক সমর্থন ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম