Wed, 24 Oct, 2018
 
logo
 

টক অব দ্যা টাউন ছিল সংঘর্ষের ঘটনা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: পুরো নগরী জুড়েই আলোচনায় ছিল গত মঙ্গলবার সংঘর্ষের ঘটনা। আতঙ্ক ছিল সাধারন মানুষের চোখে মুখে। নগরীর বিভিন্ন জায়গায় পত্রিকার ষ্টলগুলো ও স্ট্যান্ডগুলোতে ছিলো মানুষের প্রচন্ড ভিড়।

অনেক ষ্টলগুলোতেই স্থানীয় পত্রিকা ছিলো না। গাড়ী চলাচলও ছিল স্বল্প। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ছিলো পুলিশ মোতায়েন। সব মিলিয়ে টক অব দ্যা টাউন ছিল এই সংঘর্ষের ঘটনা।
মঙ্গলবারের এই সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে নারায়ণঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন প্রেস ব্রিফিং করেছেন। এসব প্রেস ব্রিফিংয়ে তারা নিজেদের পক্ষ থেকে মতামত প্রকাশ করেছেন। এদিকে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিকরাও মানববন্ধন করেছেন।
এদিন যা ঘটেছিল:
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ছিলেন হকার বসানোর পক্ষে এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী ছিলেন হকার উচ্ছেদের পক্ষে। আর এনিয়ে কয়েকদিন ধরেই মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন শামীম ও আইভী পক্ষ। যার ফলশ্রুতিতে মঙ্গলবার বিকেলে শামীম ওসমানের আশ্বাসে হকাররা বসতে শুরু করে। আর অন্যদিকে মেয়র আইভী হকার উচ্ছেদ করতে করতে চাষাড়া আসতে শুরু করেন।

টক অব দ্যা টাউন ছিল সংঘর্ষের ঘটনা

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, ওইদিন বিকেল আইভীর নেতৃত্বে মিছিল চাষাঢ়া সায়াম প্লাজার সামনে আসে। সেখানে কয়েকজন হকারকে ফুটপাত থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে ধাক্কা-ধাক্কি ও বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। ওই সময়ে একজন হকারকে মারধর করা হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তখন যুবলীগ নেতা নিয়াজুল সেখানে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। এসময় নিয়াজুলকে অস্ত্র প্রদর্শন করতেও দেখা যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন গেলে তাকেও মারধর করা হয়।

টক অব দ্যা টাউন ছিল সংঘর্ষের ঘটনা

এদিকে এ খবর চাষাঢ়া এলাকায় ছড়িয়ে গেলে সেখানে থাকা আওয়ামী লীগের মহানগর কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু সহ অন্যরা এগিয়ে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারী শরীফউদ্দিন সবুজ সহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়। সংঘর্ষের সময়ে উভয় পক্ষের লোকজন একে অন্যকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মত ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে পুরো নগরীজুড়েই আতংক ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু শহরে যান চলাচল ও আশেপাশের সকল দোকানপাট।

অন্যদিকে এই ঘটনায় পুরো নগরীজুড়েই ছিল থমথমে অবস্থা। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বাড়ি ফিরে যান নগরবাসীরা। ফাঁকা হয়ে যায় রাস্তাঘাট। আতঙ্কের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয় জেলা কমিউনিষ্ট পার্টির নেতা হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে আহত হকারদের নিয়ে লাঠি মিছিল। যার রেষ এখনো বিদ্যমান রয়েছে নগরবাসীদের মধ্যে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম