Wed, 15 Aug, 2018
 
logo
 

হকার ইস্যুতে নগরী রণক্ষেত্র, মেয়রসহ আহত অর্ধশতাধীক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রণক্ষেত্রে পরিনত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ শহরের রাজপথ। নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৪৭ রাউন্ড গুলি ও ৯ রাউন্ড টিয়ার শেল ছুড়েছে। এতে কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৫টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় চাষাড়ায় এ সংঘর্ষ ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে সতর্কাবস্থায় রয়েছেন।

হকার ইস্যুতে নগরী রণক্ষেত্র, মেয়রসহ আহত অর্ধশতাধীক
ফতুল্লা মডেল থানার ভার্রপাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) শাহজালাল জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।


তবে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা এবং অনেক হকার অভিযোগ করেন,  ”এই রণক্ষেত্রেরে জন্যে আইভীর উস্কানীই দায়ী। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ‘হকার মুক্ত ফুটপাথ চাই’ স্লোগান ধরে লোকজন নিয়ে চাষাড়ার দিকে হেঁটে আসছিলেন সেলিনা হায়াত আইভী। এসময় হকাদের উচ্ছেদ শুরু করলে হকাররা প্রতিবাদ জানায়। এসময় সংঘর্ষ সৃষ্টি হলে শামীম ওসমানের অনুসারীরা থামাতে গেলে তাদের উপর হামলা হয়। পরে দুই পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়।”


তারা আরো অভিযোগ করে, ‘বিএনপি নেতা খোরশেদ ও জোড়া খুন মামলার আসামী হাসানের লোকজনের সন্ত্রাসী লোকজনও উপস্থিত ছিলেন।’

হকার ইস্যুতে নগরী রণক্ষেত্র, মেয়রসহ আহত অর্ধশতাধীক
এদিকে শামীম ওসমান বলেছেন, যারা হকারদের রক্ত জড়িয়েছে আল্লাহ তাদের বিচার করবেন। এটা কোন রাজনৈতিক সংঘাত না। এই সংঘর্ষে বিএনপির অনেক ক্যাডাররা রয়েছে। এসব ক্যাডাররা হকারদের উপর হামলা করেছে। ইট পাটকেলে আমাদের প্রচুর লোকজন আহত হয়েছে। হকারদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। তারপরেও আমাদের লোকজন আইন নিজের হাতে তুলে নেই নাই। হকাররা বসবে, তাদেরকে বাঁধা দেওয়া যাবে না।  


তবে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আইভি বলেন, আমি মৃত্যুকে ভয় করি না। আমি শান্তিপূর্ণভাবে হেঁটে আসছিলাম। চাষাড়ার রাইফেলস ক্লাবে বসে শামীম ওসমান আমার ওপর হামলা চালানো নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশ পেয়ে তার লোকজন ইট পাটকেল ছোড়ে। এটা নিরস্ত্র লোকের সশস্ত্র হামলা। এ হামলায় সাংবাদিকসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।


সিটি করপোরেশনে একমাত্র নারী মেয়র আইভী অবিলম্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের পদত্যাগ দাবি করেন।

হকার ইস্যুতে নগরী রণক্ষেত্র, মেয়রসহ আহত অর্ধশতাধীক
পুলিশের নীরব ভূমিকার ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার মইনুল হক বলেন, আমরা ঘটনাস্থলের মাঝখানে থেকে উভয় পক্ষকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছি। জানমালের নিরাপত্তা দিতে চেষ্টা করেছি।


মেয়র আইভী অভিযোগ করেছেন শামীম ওসমানের প্রতি আপনারা সহানুভূতিশীল ছিলেন-এর জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল জানমালের নিরাপত্তা রক্ষা করা।

শহরজুড়ের অন্যান্য খবর

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম