Tue, 24 Apr, 2018
 
logo
 

উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপাচ্ছে ভুয়া আদম ব্যবসায়ী রিপন ফকির। পরিস্থিতি নিজেই উত্তপ্ত করে বেসামাল হয়ে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাকে পূঁজি করে মানুষের সহানুভূতি নিতে চাইছে ফিটিংবাজখ্যাত রিপন ফকির। পাশাপাশি আইনের চোখে ধুলো দিয়ে নিরীহ মানুষদের ফাঁসাতে চেষ্টায় লিপ্ত বিদেশ থেকে অপরাধ করে ফিরে আসা রিপন ফকির।

বিদেশে পাঠাবার নাম করে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে নেয়া বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করার জন্যই প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে মনগড়া কল্পকাহিনী তৈরী করে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে নামধারী নেতা রিপন ফকির। পাওনা টাকার জের ধরে তার হাতে নিগ্রহের শিকার মো. মুরশিদ আলম খান বৃহস্পতিবার গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এসব তথ্য তুলে ধরেন।

মো. মুরশিদ আলম খান জানান, তিনি পেশায় একজন ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী। ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকার প্রধান সিএনজি পাম্পের সামনে তার অফিস। ইটালি নেবার কথা বলে তার দুই ভাগ্নে আরিফ ও রাজুর কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ও পাসপোর্ট নিয়েছে রিপন ফকির। একই কারণে তার তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছে রিপন ফকির। গত ৮ মাস যাবৎ ধরে তার দুই ভাগ্নেকে বিদেশ পাঠানো নিয়ে রিপন নানা তালবাহানা করে আসছে। এমনকি তার থেকে ধার নেয়া ৫ লাখ টাকাও না দেয়ার ফন্দি ফিকির করে রিপন ফকির। এসব বিষয়ে ফোন করা হলে রিপন ফকির অশোভন আচরণ করে এবং ভয়ভীতি দেখায়।

গত ১২ ডিসেম্বর পঞ্চবটি প্রধান সিএনজি পাম্প সংলগ্ন অফিসে এসে মুরশিদ আলম খানকে ফোন দেয় রিপন। মুরশিদ এ সময় চাষাঢ়ায় থাকায় রিপনকে অফিসে বসতে বলেন। অফিসের ঢুকার পর কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই মুরশিদকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে রিপন। একপর্যায়ে টেবিলে রাখা মুরশিদের একটি মোবাইল ফোন আছড়ে ভেঙ্গে ফেলে রিপন। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে রিপন মাটিতে পড়ে ফুলের টবের সাথে আঘাত পায়। পরে রিপনকে শহরের নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে পাঠনোর ব্যবস্থা করেন মুরশিদ আলম। এরপর তিনি এ বিষয়ে ওই দিনই ফতুল্লা মডেল থানায় একটি অভিযোগ করেন।

মুরশিদ আলম জানান, প্রকৃত ঘটনা এ রকম। কিন্তু এসবের ধারে কাছে না গিয়েই নিজের আহতের ঘটনাকে পুঁজি করে সমাজের সব মানুষকে বিভ্রান্ত করে যাচ্ছে রিপন। রিপন ফকিরের অতীত ও বর্তমান খোঁজ খবর নিয়ে তার ভয়ংকর মুখোশ সমাজের কাছে উন্মোচন করার জন্য সংবাদকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাই। যাতে আর একটি মানুষও তার দ্বারা কোনরূপ প্রতারিত না হয়।   

রিপন ফকির সম্পর্কে এলাকাবাসী জানান, ৩ বছর আগে গ্রীসে গাঁজাসহ ধরা পড়ে রিপন। এরপর তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। যে কারণে সে ওই দেশে আর কোন দিন যেতে পারবে না। রিপন ফকিরের দৃশ্যমান কোন আয়ের উৎস নেই। নিজ এলাকায় ইসদাইরে ফিটিংবাজ রিপন হিসেবে পরিচিত। মানুষদের বিদেশে পাঠানোর নাম করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথে ছবি তুলে মানুষকে প্রতিনিয়ত ধোকা দিয়ে আসছে। তার নামে ফতুল্লা থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা রয়েছে।

ধূর্তবাজ রিপন ফকিরের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগীরা।

শহরজুড়ের অন্যান্য খবর

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম